দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা বাগেরহাটকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও সম্ভাবনাময় জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন দুই ভাই—লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু এবং চেয়ারম্যান সিপিএ রফিকুল ইসলাম জগলু ।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে তারা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাদের লক্ষ্য শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য বাগেরহাট গড়ে তোলা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে শিক্ষা সহায়তা, মানবিক সহযোগিতা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন চাহিদাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে ড. ফরিদুল ইসলাম বাবলুর উদ্যোগে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে বাগেরহাট অফিসার্স ফোরাম। এই সংগঠনের মাধ্যমে বাগেরহাটের বিভিন্ন ক্যাডারের বিসিএস কর্মকর্তাদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। জেলার সার্বিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটে একটি আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, উপজেলাগুলিতে মিনি স্টেডিয়াম, বাগেরহাট সদর, মোংলা ও রামপাল উপজেলায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং কলেজ, আধুনিক সার্কিট হাউস, হার্ট ফাউন্ডেশন, ট্রমা সেন্টার, ফকিরহাটে আধুনিক খাদ্য গুদাম, বাগেরহাট থেকে মোরেলগঞ্জ হয়ে বগী পর্যন্ত দ্বৈত লেন সড়ক, বাগেরহাট স্টেডিয়ামে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, মোরেলগঞ্জ শিশু পার্ক এবং বাগেরহাট সদরে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণসহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবা যেমন উন্নত হবে, তেমনি শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া ও পর্যটন খাতেও নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটের উন্নয়ন সম্ভাবনার অনেক ক্ষেত্রই অবহেলিত ছিল। পরিকল্পিতভাবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উন্নত জেলায় পরিণত হতে পারবে বাগেরহাট।
এ বিষয়ে লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, “সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে চাই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান—এই চারটি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, “বাগেরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বাগেরহাট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বিএনপি থেকে মনোনীত অপরাপর সংসদ সদস্য প্রার্থী, ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।”
লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সিপিএ রফিকুল ইসলাম জগলু বলেন, “বাগেরহাট আমাদের জন্মভূমি। এই জেলার মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও মানবিক বাগেরহাট গড়ে তুলতে চাই। আমরা প্রবাসে থাকলেও জন্মভূমির মানুষের কথা কখনো ভুলিনি এবং ভবিষ্যতেও এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানুষের কল্যাণের লক্ষ্য থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত নয়। আমরা শুধু বাগেরহাটের উন্নয়ন ও মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
জেলার উন্নয়ন নিয়ে দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাগেরহাট দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক ও সমৃদ্ধ জেলায় পরিণত হবে।



