অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করেই কেটেছে জীবনের বেশিরভাগ সময়। বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মালোপাড়ার বাসিন্দা বিপ্লব দাস (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে নরসুন্দরের পেশায় নিয়োজিত থাকলেও সীমিত আয়ে সাত সদস্যের পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে। শেষ পর্যন্ত জীবনের চাকা ঘোরাতে বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখেন তিনি। কিন্তু অর্থাভাবে সেই স্বপ্নও যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সাবেক সচিব ও বাগেরহাট জেলা বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু।
তার সহযোগিতায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকার ঋণ পেয়ে অবশেষে কাতারের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বিপ্লব দাস।
জানা গেছে, বিপ্লব দাস স্থানীয়ভাবে একটি সেলুনে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে চুল ও দাড়ি কাটার কাজ করতেন। কিন্তু পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে সেই আয় যথেষ্ট ছিল না। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান এবং ভাইসহ সাত সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি প্রায়ই আর্থিক সংকটে পড়তেন।
একপর্যায়ে উন্নত জীবনের আশায় কাতারে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান তিনি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেও বিদেশযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে পারেননি। এ অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণের আবেদন করেন। তবে নিজের নামে পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকায় ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেয়।
পরে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক রুহুল আমিন বাবুর মাধ্যমে ড. ফরিদুল ইসলাম বাবলুর নজরে আনা হয়। বিপ্লব ও তার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরেন।
মানবিক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ড. বাবলু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপ্লব দাস প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকার ঋণ লাভ করেন।
ঋণ পাওয়ার পর বিদেশযাত্রার সকল বাধা দূর হয়। গত ১৯ জুন রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে কাতারের উদ্দেশে রওনা দেন বিপ্লব। বর্তমানে তিনি নিরাপদে কাতারে পৌঁছেছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে মানবিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ড. ফরিদুল ইসলাম বাবলু।
ড. ফরিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, “একজন পরিশ্রমী মানুষ শুধু অর্থের অভাবে যেন তার ভবিষ্যৎ হারিয়ে না ফেলেন, সেই বিবেচনা থেকেই সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। বিপ্লব ঋণ পেয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে, এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি তার সফলতা ও পরিবারের সুখী ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
কাতারে পৌঁছে বিপ্লব দাসও সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পরিবারের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, “আমি নিরাপদে কাতারে পৌঁছেছি। যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। সবার দোয়া চাই, যেন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।”
স্থানীয়দের আশা, বিপ্লবের এই নতুন যাত্রা শুধু তার নিজের জীবনই বদলে দেবে না, বরং পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দেবে।


