দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সেবা পুনরায় চালু হয়েছে। এর ফলে জেলার মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা পেতে খুলনা কিংবা ঢাকায় ছুটে যাওয়ার চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১৪ জুন) বেলা ১১টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাশ, সিভিল সার্জন ডা. আ.স.ম. মাহবুবুল আলম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দারসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
দীর্ঘদিন পর আইসিইউ সেবা চালু হওয়ায় স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলার সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য আইসিইউ সেবা ছিল সময়ের অন্যতম বড় দাবি। অবশেষে সেটি চালু হওয়ায় জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, “একজন মুমূর্ষু রোগীর স্বজনই জানেন আইসিইউ কতটা প্রয়োজনীয়। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন এই সেবা বন্ধ ছিল। আজ আইসিইউ চালুর মাধ্যমে বাগেরহাটবাসী চিকিৎসাসেবায় একধাপ এগিয়ে গেল। হাসপাতালের অন্যান্য সংকটও পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, “আইসিইউ পরিচালনার জন্য ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় জনবল থাকা জরুরি। আমাদের সেই সক্ষমতায় এখনও কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে সীমিত সম্পদ নিয়েও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। সিটিস্ক্যান, ডায়ালাইসিসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা চালুর বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
সিভিল সার্জন ডা. আ.স.ম. মাহবুবুল আলম বলেন, “উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জটিল রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে জেলা হাসপাতালের ওপরই নির্ভর করতে হয়। আইসিইউ চালু হওয়ায় জেলার মানুষ আরও উন্নত চিকিৎসা পাবেন।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল তিন শয্যা দিয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে আইসিইউ সেবা চালু করা হয়। পরে ধাপে ধাপে আরও সাতটি শয্যা যুক্ত করে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ১০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউনিটটি চালু ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে জনবল প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং আইসিইউ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যবান ভেন্টিলেটর, পেশেন্ট মনিটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।
এদিকে আইসিইউ ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাগেরহাট জেলা অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ও সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “বাগেরহাটবাসীর দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। আইসিইউ চালুর জন্য আমি স্বাস্থ্য সচিবসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক ও যোগাযোগ করেছি। জেলার মানুষের জীবন রক্ষায় এই ইউনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আশা করি, ভবিষ্যতে সিসিইউ, ডায়ালাইসিস ও সিটিস্ক্যানের মতো সেবাগুলোও চালু হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইসিইউ সেবা পুনরায় চালুর মধ্য দিয়ে বাগেরহাটের স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে জনবল সংকট দূর করে হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তরের দাবি সংশ্লিষ্টদের।



